Showing posts with label Geography Class X. Show all posts
Showing posts with label Geography Class X. Show all posts

Ocean Currents Class 10 Geography || সমুদ্রস্রোত দশম শ্রেণী ভূগোল || WBBSE

সমুদ্রস্রোত


সমুদ্রস্রোত কাকে বলে ?

নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন গতি, লবণতার তারতম্য,উষ্ণতার পার্থক্য ইত্যাদি কারনে  সমুদ্রের জলরাশি  যখন এক স্থান থেকে অন্যত্র পরিবাহিত হয় তখন তাকে বলে সমুদ্রস্রোত। 


সমুদ্র তরঙ্গ কাকে বলে ?


প্রবল বায়ু তাড়িত হয়ে সমুদ্রের জলরাশি যখন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ওঠানামা করে বা আন্দোলিত হয়, তখন তাকে বলে সমুদ্র তরঙ্গ বা সমুদ্রের ঢেউ। 


ফেচ  কি ?


বায়ু বিনা বাধায় উন্মুক্ত সাগরে কতটা পথ অতিক্রম করল, সেই দূরত্বকেই ফেচ  দূরত্ব বলে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,  কেননা তরঙ্গের উচ্চতা ও ক্ষমতা এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। 



সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারন গুলি সংক্ষেপে আলোচনা কর ?


সমুদ্রের জলরাশির একস্থান থেকে অন্যস্থানে সঞ্চালনকে সমুদ্রস্রোত বলে।  যে সকল কারনে সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি হয়,  তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারন গুলি নিম্নরূপ -


নিয়ত বায়ুপ্রবাহ


সমুদ্র বিজ্ঞানীদের মতে প্রবল নিয়ত বায়ু  প্রবাহই  সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির অন্যতম কারন।  প্রবল নিয়ত বায়ু যখন সমুদ্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন জলরাশির উপর  যে প্রভাব ফেলে তার ফলে সমুদ্রের জলরাশি নিয়ত বায়ুর দিকক্রমে  সঞ্চারিত হতে বাধ্য হয়।  


উষ্ণতার পার্থক্য


সমুদ্রের উষ্ণতার মূল উৎস হল সৌরতাপ।  কিন্তু সৌরতাপ  সমুদ্রের কোন অংশে সমানভাবে পড়ে না। নিম্ন অক্ষাংশে সূর্য লম্বভাবে কিরণ  দেওয়ায়  সমুদ্রপৃষ্ঠস্থ জল অধিক উষ্ণ হয় এবং আয়তনে বৃদ্ধি পেয়ে ( ঘনত্ব কমে যায়) বহিঃস্রোত রূপে শীতল অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।  অপরদিকে,  উচ্চ অক্ষাংশে সৌরতাপের পরিমাণ কম থাকায়, সমুদ্রের জল শীতল ও ভারী থাকে,  তাই এই অঞ্চলের  জল অন্তঃস্রোত রূপে উষ্ণ সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়


লবণতার তারতম্য


উষ্ণতা তথা বাষ্পীভবনের পরিমাণ,  নদী ও বৃষ্টির জলের  সংমিশ্রণ,  বরফ গলা জলের সরবরাহ,  ইত্যাদি কারণে সমুদ্র জলের লবনতা পার্থক্য ঘটে।  লবনতা যেখানে বেশি, সেই স্থানের জল তুলনামূলকভাবে অল্প লবণাক্ত জলের তুলনায় ভারী।  এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে জলতলের  উচ্চতার যে পার্থক্য ঘটে তার ফলে অল্প লবণাক্ত জল বহিঃস্রোত রূপে এবং অধিক লবণাক্ত জল অন্তঃস্রোত রূপে একে অপরের দিকে ধাবিত হয় এবং সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি করে। 


পৃথিবীর আবর্তন


পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য যে কেন্দ্র বহিঃ মুখী  সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়।  নিরক্ষরেখা বরাবর কেন্দ্র বহিঃমুখী শক্তির প্রভাব মেরু অঞ্চলের তুলনায় বেশি। এর প্রধান কারণ মেরু বৃত্ত অপেক্ষা  নিরক্ষরেখার পরিধি অনেক বেশি।  এই বৈষম্যময় কেন্দ্র বহিঃমুখী শক্তির প্রভাবে নিরক্ষীয় অঞ্চলের জল মেরু অঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়।


বায়ুর চাপ


বায়ুর চাপ সমুদ্রস্রোত সৃষ্টিতে দুইভাবে ক্রিয়াশীল।  যথা ১.  যেখানে বায়ুর চাপ বেশি, সেই স্থানে সমুদ্রতল অধিক চাপে কিছুটা অবনমিত হয়ে পড়ে।  এই সমতা ফিরিয়ে আনতে সমুদ্র জল সঞ্চারিত হয়। ২.  বায়ুচাপের পার্থক্য বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় যা সমুদ্র জল কে এক স্থান থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে সাহায্য করে। 


বাষ্পীভবনের পরিমাণ ও বৃষ্টিপাত


যে স্থানে বাষ্পীভবনের পরিমাণ বেশি সেই স্থানে সমুদ্রের জলতল  কিছুটা অবনমিত হয়ে পড়ে, তাই পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জল ওই স্থানের দিকে স্থানান্তরিত হয়। পাশাপাশি বৃষ্টিপাত অধিক হলে সমুদ্রের জলতল  কিছুটা উঁচু হয়ে ওঠে এবং বৃষ্টির জল হওয়ায় এর ঘনত্ব কম তাই এই জল বহিঃস্রোত রূপে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সঞ্চালিত হয়।  


উক্ত কারন গুলির পাশাপাশি সামুদ্রিক জোয়ার ভাটা, মহাদেশ গুলির অবস্থান, বিভিন্ন সমুদ্রস্রোতের পারস্পারিক মিলন, উপকূল ভাগের আকৃতি, ঋতু পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় গুলি সমুদ্রস্রোতকে  আংশিক পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ করে।  



Share:

Atmospheric Temperature Class 10 || বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা এবং তারতম্যের কারণ দশম শ্রেণী || WBBSE

বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বলতে কী বোঝ ?  উষ্ণতার তারতম্যের কারণ গুলি আলোচনা কর ?


বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতার মূল উৎস সূর্য হলেও পৃথিবীর সর্বত্র সূর্যের তাপীয় ফলের প্রভাব সমানভাবে বন্টিত হয় না এবং কতগুলি বিশেষ প্রাকৃতিক কারণে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতার তারতম্য হওয়ায়, সংলগ্ন বায়ুমন্ডলে উষ্ণতার পার্থক্য দেখা যায় । অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বত্র উষ্ণতার পরিমাপ এক  প্রকার নয়।  যে সকল কারনে অঞ্চল ভেদে বায়ুমন্ডলে উষ্ণতার তারতম্য ঘটে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কারন গুলি হল -


১) সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল 


সূর্য কিরণ থেকে যে তাপ  ক্ষুদ্র তরঙ্গে পৃথিবীতে উপনীত হয় তাকে সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল বলে ।  তাপীয় ফলের 34 শতাংশ মহাশূন্যে প্রত্যাগমন করে যাকে অ্যালবেডো বলে।  বাকি অবশিষ্ট 66 শতাংশ ভূপৃষ্ঠ কে উত্তপ্ত করে, যা কার্যকরী সৌর বিকিরণ নামে পরিচিত।  কিন্তু সূর্য রশ্মির পতন কোণের পার্থক্যে  তাপীয় ফলের প্রভাব সর্বত্র সমান ঘটে না।  ফলে বায়ুমন্ডলে উষ্ণতার তারতম্য ঘটে। 


২) অক্ষাংশ


অক্ষাংশের সাথে সূর্যালোকের পতন কোণের  সম্পর্ক রয়েছে।  নিম্ন অক্ষাংশে বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দিলেও অক্ষাংশ বৃদ্ধির সাথে সাথে ভূপৃষ্ঠে সূর্যালোক ক্রমশ তীর্যকভাবে পতিত হয়। লম্বভাবে পতিত রশ্মি বায়ুমণ্ডলের অল্পস্তর  ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে কিন্তু তীর্যকভাবে  পতিত রশ্মি বায়ুমণ্ডলের অধিক স্তর ভেদ করে বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।  তাই নিম্ন অক্ষাংশ থেকে উচ্চ অক্ষাংশের দিকে বায়ুর উষ্ণতা ক্রমশ কমতে থাকে। 


৩) উচ্চতা


উচ্চতার সাথে  উষ্ণতার সম্পর্ক  অত্যন্ত নিবিড়।   ট্রপোস্ফিয়ারের প্রতি 1 কিমি উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা 6.4 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হারে হ্রাস পায়। তাই সমুদ্র সমতল থেকে যে স্থান যত উঁচুতে অবস্থিত,  সেই স্থানের উষ্ণতা তত কম।  এই কারণেই শিলিগুড়ি অপেক্ষা দার্জিলিংয়ের জলবায়ু শীতল প্রকৃতির। 


৪) ভূমিরূপ


ভূমিরূপ এর পার্থক্যে  উষ্ণতার পার্থক্য সূচিত হয়।  সমগ্র পৃথিবীকে পার্বত্য ভূমি, মালভূমি ও সমভূমি এই তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় এবং এই তিনটি ভূমিরূপের  উচ্চতা, বন্ধুরতা  এবং অবস্থানগত যে পার্থক্য রয়েছে তার ফলে উষ্ণতার সুস্পষ্ট পার্থক্য ঘটে।


৫) ভূমিভাগের ঢাল


ভূমি ভাগের ঢালের সাথে উষ্ণতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।  উত্তর গোলার্ধের দক্ষিন  দিকের ঢালু  জমি এবং দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর দিকের ঢালু জমিতে সূর্যালোক সরাসরি পতিত হয়,  তাই বিপরীত  ঢাল গুলির তুলনায়  এই  ঢাল গুলিতে উষ্ণতা তুলনামূলক ভাবে  অনেক বেশি।  এই কারণে হিমালয় পর্বতের উত্তর ঢালের তুলনায় দক্ষিণ ঢালে অনেক বেশি মানুষ বসবাস করে।


৬) সমুদ্র থেকে দূরত্ব


যে স্থান থেকে যত দূরে অবস্থান করে, সেই স্থানের উপর সামুদ্রিক প্রভাব  তত হ্রাস পায় ফলে দূরবর্তী স্থান গুলির উষ্ণতা চরমভাবাপন্ন হয়।  উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিহারের গয়া এবং পাকিস্তানের করাচি একই অক্ষাংশে অবস্থান করলেও গয়ার তুলনায়  সমুদ্রতীরবর্তী করাচির উষ্ণতা অনেক বেশি মৃদু।


৭) সমুদ্রস্রোত


সমুদ্রস্রোত দুই প্রকারের হয়, উষ্ণ ও শীতল।  উষ্ণ সমুদ্র স্রোতের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ভূমি ভাগের উষ্ণতা বেড়ে যায় এবং শীতল সমুদ্র স্রোতের প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ভূমি ভাগের উষ্ণতা কমে যায়।  আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর  উপকূল বরাবর   উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় শীতকালেও এই উপকূল বরফ মুক্ত থাকে।  অপরদিকে ল্যাব্রাডর উপকূল তুলনামূলকভাবে নিম্ন অক্ষাংশে অবস্থান করা সত্ত্বেও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে  শীতকালে বরফাবৃত হয়ে পড়ে। 


৮ ) অরণ্য ভূমি


অরণ্যভূমির উপস্থিতি এবং বিস্তার সংলগ্ন অঞ্চলের  আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতকে নিয়ন্ত্রণ করায়  বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা উন্মুক্ত প্রান্তরের তুলনায় অরণ্যভূমি সংলগ্ন অঞ্চলে অনেক কম হয়।  এই কারণে গ্রীষ্মের দাবদাহে গাছের ছায়া অনেক বেশি আরামপ্রিয়।


৯) মৃত্তিকা ও খনিজ


মৃত্তিকার জল ধারণ ক্ষমতা, বর্ণ এবং খনিজের উপস্থিতি প্রত্যক্ষভাবে উষ্ণতা কে নিয়ন্ত্রণ করে।  যে সকল মৃত্তিকা হালকা বর্ণের এবং খনিজের প্রাচুর্য রয়েছে, সেই সকল মৃত্তিকায় তাপ শোষণ এর তুলনায় বিকিরণ বেশি হয় ফলে সংলগ্ন স্থানের উষ্ণতা চরমভাবাপন্ন হয়। অন্যদিকে মৃত্তিকা গাঢ় বর্ণের হলে বিকিরণ এর তুলনায় শোষণ অনেক বেশি হয়,ফলে উষ্ণতা কিছুটা মৃদু হয়। 


১০) বায়ুপ্রবাহ


বায়ুপ্রবাহ তার প্রবাহ পথে উৎপত্তি স্থানের ছাপ রেখে যায়।  অর্থাৎ শীতল অঞ্চল থেকে আশা বায়ু প্রবাহে উষ্ণতা কমে যায় । এই কারনে আমাদের দেশে ডিসেম্বর জানুয়ারি মাসে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ু আবির্ভাব ঘটায় উষ্ণতা অনেক হ্রাস  পায়।  শীত ও বসন্ত ঋতুতে রকি পর্বতের পূর্ব ঢালে চিনুক নামে এক প্রকার উষ্ণ বায়ুর আগমন ঘটে তার ফলে তুষার জমতে পারে না। 


১১) পর্বতের অবস্থান ও বিস্তার


পর্বতের বিস্তার প্রত্যক্ষভাবে সৌরতাপ লাভ এবং বায়ু প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে যা উষ্ণতার পরিবর্তন ঘটায়।  উদাহরণ হিসেবে আমাদের দেশের উত্তর সীমা বরাবর সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা প্রাচীরের ন্যয় দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু একই অক্ষাংশে অবস্থিত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে  অনুরূপ কোন  পর্বত না থাকায় আমেরিকা মহাদেশ অনেক বেশি শীতল।


১২) মেঘ ও বৃষ্টি


মেঘাচ্ছন্নতা প্রত্যক্ষ সৌর বিকিরণে বাধা সৃষ্টি করে এবং বৃষ্টিপাত হলে অধিক পরিমাণে সৌরতাপ শোষিত হয়। ফলে মেঘ-বৃষ্টির আধিক্য ঘটলে সেই স্থানের উষ্ণতা তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে রাত্রিকালে আকাশে মেঘ থাকলে, পৃথিবী থেকে বিকিরিত তাপ মহাশূন্যে প্রত্যাগমনে বাধা পায়। এই কারণে মেঘমুক্ত রাত্রি অপেক্ষা মেঘাচ্ছন্ন রাত্রের উষ্ণতা বেশি হয়।


১৩) মানুষের কার্যাবলী


সর্বোপরি মানুষের বিভিন্ন প্রকার কার্যাবলী উষ্ণতা কে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে।  বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে অরণ্যভূমির উৎখাত, অপরদিকে অত্যাধুনিক যে সকল উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে এবং পরিবহন ব্যবস্থার যে বিকাশ ঘটেছে,  এদের থেকে নির্গত দূষিত বর্জ্য পদার্থ ও গ্যাস বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা কে বাড়িয়ে দিয়েছে।  এই কারনেই শিল্পনগরীর উষ্ণতা অন্যান্য শহরের তুলনায় অনেক বেশি। 




Share:

Anticyclone Class 10 Geography || প্রতীপ ঘূর্ণবাত দশম শ্রেণী ভূগোল || WBBSE

প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে ?


ভূপৃষ্ঠের অল্প পরিসর স্থান জুড়ে  তীব্র উচ্চচাপ গঠিত হলে,   ওই উচ্চচাপ  কেন্দ্র থেকে বায়ু ঘুরতে ঘুরতে নিম্নমুখী পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের তুলনামূলক ভাবে নিম্নচাপের দিকে বেরিয়ে আসে.  তবে এই বায়ু,  নিয়ত বায়ুর মত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে আবর্তিত হয়.  অর্থাৎ এর উৎপত্তির কারণ এবং এর গতিপথ,  ঘূর্ণবাতের ঠিক বিপরীত বলে একে  প্রতীপ  ধন্যবাদ বলে।  প্রসঙ্গত 1861 সালে  স্যার ফ্রান্সিস গ্যালটন ঘূর্ণবাতের ঠিক বিপরীত ধর্ম লক্ষ্য করে একে Anticyclone নামে চিহ্নিত করেন। তাই বাংলায় এরনাম প্রতীপ ঘূর্ণবাত।  প্রতীপ ঘূর্ণবাত আকস্মিক বায়ু হলেও এর আবির্ভাবে  আকাশ নির্মল ও পরিষ্কার থাকে তবে  শৈত্য  প্রবাহ বেড়ে যায়। 


ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত এর একটি তুলনামূলক আলোচনাঃ


ঘূর্ণবাত

প্রতীপ ঘূর্ণবাত

১) ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে তীব্র নিম্নচাপ অবস্থান করে।

১)  প্রতিপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ বিরাজ করে।

২)  ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে বায়ু, নিয়ত বায়ুর বিপরীতক্রমে আবর্তিত হয়ে প্রবাহিত হয়। 

২)  প্রতিপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে  বায়ু,  নিয়ত বায়ুর দিকক্রমে আবর্তিত হয়। 

৩)   ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে বায়ু কেন্দ্রমুখী ও অন্তর্গামী হয়।

৩)  প্রতীপ ঘূর্ণবাতের  কেন্দ্রে বায়ু নিম্নমুখী ও বহির্গামী হয়। 

৪)  ঘূর্ণবাত বিধ্বংসী হলেও ক্ষণস্থায়ী। 

৪)  প্রতীপ ঘূর্ণবাত দীর্ঘস্থায়ী ও দুর্বল প্রকৃতির হয়।

৫ )  ঘূর্ণবাতের আবির্ভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়।  

৫ )  প্রতীপ ঘূর্ণবাত এর আবির্ভাবে  শান্ত  ও শীতল আবহাওয়ার  সৃষ্টি হয়।




Share:

Difference between Tropical and Temperate Cyclone Class 10 || ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য দশম শ্রেণী || WBBSE

ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখ

নাতিশীতোষ্ণ এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের উৎপত্তির মূল কারণ তীব্র নিম্নচাপ হলেও এদের মধ্যে উৎপত্তিগত কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এগুলি নিচে আলোচনা করা হল-



ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত

নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত

১) ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত প্রধানত গ্রীষ্ম ও শরৎ ঋতুতে দেখা যায়।

১)  নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত প্রধানত  শীত ঋতুতে দেখা যায়।

২) এই প্রকার ঘূর্ণবাত  ক্রান্তীয় মন্ডলের  উষ্ণ সমুদ্র বক্ষে  উৎপত্তি লাভ করে। 

২)  এই প্রকার  ঘূর্ণবাত,  স্থলভাগ ও জলভাগ  উভয় অঞ্চলে  সৃষ্টি হয়।

৩)  ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে  সীমান্ত গঠিত হয় না। 

৩)  নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত  সীমান্তের উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি লাভ করে। 

৪)  ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত অত্যন্ত প্রবল ও বিধ্বংসী হয়।

৪)  এই প্রকার ঘূর্ণবাত তুলনামূলক ভাবে কম শক্তিশালী। 

৫)  ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের  কেন্দ্রটি শান্ত ও নির্মল প্রকৃতির হয়। 

৫)  নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রটি অশান্ত হয়। 

৬) ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে বায়ু নিম্নগামী হয়। 

৬)  নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের  কেন্দ্রে বায়ু ঊর্ধ্বগামী হয়। 

৭) ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের বজ্রবিদ্যুৎ সহকারে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে। 

৭)  নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত একটানা কয়েকদিন হালকা বৃষ্টিপাত ঘটে। 

 


Share:

Classification of Cyclone Class 10 Geography || ঘূর্ণবাত ও ঘূর্ণবাতের শ্রেণী বিভাগ দশম শ্রেণী ভূগোল || WBBSE

ঘূর্ণবাত কাকে বলে ? ঘূর্ণবাত কয় প্রকার ও কি কি ?

ভূপৃষ্ঠের অল্প পরিসর স্থান জুড়ে যদি হঠাৎ কোন তীব্র নিম্নচাপ গঠিত হয়, তবে ওই নিম্নচাপ পরিপূরণে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের তুলনামূলক ভাবে শীতল ও ভারী বায়ু, নিয়ত বায়ুর বিপরীতে উত্তর গোলার্ধে বামাবর্তে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ু ডানাবর্তে কুণ্ডলাকারে আবর্তিত হতে হতে প্রবল বেগে নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং ঊর্ধ্বগামী হয়। এই রোগ কুণ্ডলাকৃত এবং কেন্দ্রমুখী বিধ্বংসী প্রবল বায়ুপ্রবাহকে ঘূর্ণবাত বলে। 


এই বায়ুর আবির্ভাব হঠাৎ হয়, এবং হঠাৎ-ই বিলীন হয়ে যায়। তাই এর প্রকৃতি আকস্মিক প্রকৃতির। এই বায়ুর আসা-যাওয়ার কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তাই একে অনিয়মিত বায়ু বলে। উৎপত্তি ও স্থানভেদে ঘূর্ণবাত কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় - 


উৎপত্তি ও স্থানভেদে ঘূর্ণবাত কে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । 


A) উষ্ণমণ্ডলীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলের ঘূর্ণবাত

গ্রীষ্মমণ্ডলে বা উষ্ণমন্ডলে অর্থাৎ নিরক্ষরেখার দুই দিকে 30° অক্ষাংশের মধ্যে উষ্ণ সমুদ্র বক্ষে হঠাৎ সৃষ্ট তীব্র নিম্নচাপ গঠনে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের আবির্ভাব ঘটে। এই প্রকার ঘূর্ণবাত এর গতি ঘন্টায় 80 থেকে 120 কিমি হয়ে থাকে। এই প্রকার ঘূর্ণবাত অত্যন্ত বিধ্বংসী হয়ে থাকে। ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রটিকে Eye of the depression বা ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলে। প্রকৃতি ভেদে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা - প্রবল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত এবং দুর্বল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত।


ক) প্রবল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত

প্রবল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত অত্যন্ত বিধ্বংসী এবং ইহা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে পরিচিত।

১) দক্ষিণ চীন সাগরে ইহা টাইফুন নামে পরিচিত।

২) ক্যারিবিয়ান সাগরে ইহা হারিকেন নামে পরিচিত।

৩) আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে তথা ভারত মহাসাগরে এই প্রবল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সাইক্লোন নামে পরিচিত।

প্রসঙ্গত, উল্লেখ করা যায় যে এই প্রকার ঘূর্ণবাতের গতি ঘন্টায় 130 কিমি অতিক্রম করলে তাকে টর্নেডো বলে।

খ) দুর্বল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত

তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রকৃতির নিম্নচাপ গঠনে গড়ে ওঠা ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত কে দুর্বল ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বলে। বঙ্গোপসাগরে বর্ষা ও শীত ঋতুতে এই জাতীয় ঘূর্ণবাতের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী ও দুর্যোগপূর্ণ বৃষ্টিবহুল আবহাওয়ার সৃষ্টি করে যা অনেক ক্ষেত্রেই বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।



B) নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলীয় বা মধ্য অক্ষাংশীয় ঘূর্ণবাত

নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলে অল্প পরিসর স্থান কোন তীব্র নিম্নচাপ গঠিত হলে ওই নিম্নচাপ পরিপূরনে বিপরীত ধর্মী দুই প্রকার বায়ু যথা মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী বায়ু এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও হাল্কা বায়ু পরস্পরের মুখোমুখি ধাবিত হয়, এবং পরস্পর মিলিত হয়ে একটি সীমান্ত গড়ে তোলে। বিপরীত ধর্মী এই দুই বায়ুর সীমান্তে যে আলোড়নের সৃষ্টি হয় তার ফলে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত গঠিত হয়।

প্রখ্যাত আবহাওয়া বিজ্ঞানী বার্জেস নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের জীবনচক্রকে 6 টি পর্যায় বিভক্ত করেছেন।


১) প্রথম পর্যায়ে দুটি বিপরীত ধর্মী বায়ুপুঞ্জ পরস্পর মুখোমুখি অবস্থান করে।

২) দ্বিতীয় পর্যায়ে উষ্ণ বায়ুর তুলনায় শীতল বায়ুপুঞ্জ অধিক ভারী ও গতি সম্পন্ন হাওয়ায় সীমান্তে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়।

৩) তৃতীয় পর্যায়ে উষ্ণ বায়ুপুঞ্জের একটি অংশ শীতল বায়ুপুঞ্জের ওপর তীর্যকভাবে উঠে যায়।

৪) চতুর্থ পর্যায়ে তরঙ্গটি অত্যন্ত প্রবল ও প্রকট হওয়ায় এবং অধিক গতিশীলতার জন্য উষ্ণ সীমান্তের কাছে চলে আসে, তার ফলে অতীব সূক্ষ্মকোণের সৃষ্টি হয়। 

৫) পঞ্চম পর্যায়ে, শীতল বায়ুপুঞ্জ সক্রিয় হওয়ায়, উষ্ণ সীমান্ত কে ধরে ফেলে, এর ফলে উষ্ণ বায়ু উপরে উঠে যায় এবং অক্লুডেড বা সমাপিত সীমান্ত গঠন করে।

৬) ষষ্ঠ পর্যায় হল ঘূর্ণবাতের শেষ পর্যায় এবং এই পর্যায় থেকে ঘর্ণীটি শীতল বায়ুপুঞ্জের মধ্যে ক্রমশ মিলিয়ে যেতে থাকে ফলে ঘূর্ণবাতটিও ধীরে ধীরে অস্তোমিত হয়।


Share:

Winds Class 10 Geography || বায়ু প্রবাহের নিয়ন্ত্রক দশম শ্রেণী ভূগোল || WBBSE

বায়ু প্রবাহ কাকে বলে ? বায়ু  প্রবাহের  নিয়ন্ত্রক গুলির পরিচয় দাও ?


ভূপৃষ্ঠস্থ বায়ুচাপের তারতম্যের কারনে বায়ুর অনুভূমিক সঞ্চালনকে বায়ু প্রবাহ বলে।  বায়ু সর্বদাই  উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।  কিন্তু ইহা কখনোই সোজা পথে সম্পন্ন হয় না। অর্থাৎ কতগুলি কারনে বায়ুর গতি ও বায়ুপ্রবাহের  বিক্ষেপ ঘটে।  এইসকল নিয়ন্ত্রক গুলি নিচে আলোচনা করা হল -


কোরিওলিস বল


1849 খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ কোরিওলিস,  একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে  পৃথিবীর আবর্তন অর্থাৎ ঘূর্ণন গতির জন্য বায়ুপ্রবাহের দিক  বিক্ষেপ ঘটে।  এই  ঘূর্ণন জাত  দিক বিক্ষেপকেই কোরিওলিস বল বলে।  এর ফলে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বায়ু বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।  যা ফেরলের সূত্র নামে পরিচিত।


কেন্দ্রাতিগ  বল


সমচাপ রেখা গুলি সমান্তরাল না হয়ে বক্রাকারে বা বৃত্তাকারে  অবস্থান করার জন্য কেন্দ্রাতিগ  বলের সৃষ্টি হয় । এই কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে বায়ুর গতি ও প্রবাহের বিক্ষেপ ঘটে।  এর উপর ভিত্তি করে 1857 সালে  বাইস ব্যালট বলেন যে,  যেদিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে সেই দিকে মুখ করে দাঁড়াল উত্তর গোলার্ধে ডান হাতে বা ডানদিকে  উচ্চ চাপ অনুভূত হয় এবং বাহাতে বা বামদিকে নিম্নচাপ অনুভূত হয়।  ইহা বাইস ব্যালট সূত্র নামে পরিচিত। 


ঘর্ষণের প্রভাব


পৃথিবীর স্থলভাগ ভূপৃষ্ঠ সমতল নয়।  অনুভূমিক বায়ুপ্রবাহ এই অসমতল ভূভাগ দ্বারা  ঘর্ষণ প্রাপ্ত হয় বাধাপ্রাপ্ত হয়।  এর ফলে বায়ু প্রবাহের গতি যেমন  কমে আসে তেমনি বায়ুপ্রবাহের দিকের পরিবর্তন ঘটে।


Share:

Importance and Problems Kolkata Port Class 10 Geography || কলকাতা বন্দরের গুরুত্ব ও সমস্যা দশম শ্রেণী ভূগোল || WBBSE

 পূর্ব ভারতের সার্বিক উন্নয়নে কলকাতা বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধর?

বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে প্রায় 128 কিলোমিটার অভ্যন্তরে এই কলকাতা নদী বন্দরটি অবস্থিত। বন্দরের পশ্চাৎভূমি পশ্চিমবঙ্গ বিহার উড়িষ্যা, ঝাড়খন্ডউত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশসমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল, ভুটান জুড়ে বিস্তারিত।  এই  পশ্চাৎ ভূমিটি  কৃষি-শিল্প  খনিজ ও বনজ সম্পদে  সমৃদ্ধ এবং ভারতের সর্বাপেক্ষা জনবহুল অঞ্চল গাঙ্গেয় সমভূমি, এবংপূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ, জাতীয় সড়ক ও অন্যান্য সড়কপথেনৌপথে পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সাথে যুক্ত রয়েছে।  এই কলকাতা বন্দরের উপর ভিত্তি করে এই অঞ্চলে পাট, কার্পাস, বয়ন, লৌহ-ইস্পাত, মোটরগাড়্‌ কাগজ, রেল-ইঞ্জিন নির্মাণ, চিনি, রাসায়নিক দ্রব্য, ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রব্য প্রভৃতি শিল্পের সমাবেশ ঘটেছে।  আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের চাপাট ও পাটজাত দ্রব্যবিহারের কয়লাআকরিক লোহা ও  অভ্রওড়িশার আকরিক লোহা ও ম্যাঙ্গানিজউত্তরপ্রদেশের চামড়াচিনি  ও তৈলবীজ এই কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।  অন্যদিকে এই বন্দরের মাধ্যমে যে সকল দ্রব্য আমদানী করা হয় তারমধ্যে খাদ্যশস্য, কাগজ, মোটরগাড়ি, রাসায়নিক, খনিজ আকরিক, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

 কাজেই এটি নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পূর্ণভাবে কলকাতা বন্দরের উপর নির্ভরশীল অর্থাৎ পূর্ব ভারতের অর্থনীতি কলকাতা বন্দরের অবদান। 

কলকাতা বন্দর

কলকাতা বন্দরের সমস্যা সমাধানে তোমার মতামত ব্যাখ্যা কর ?

 প্রাক স্বাধীনতার পূর্বে কলকাতা ছিল ভারতের শ্রেষ্ঠ বন্দর।  বঙ্গোপসাগর থেকে 128  কিমি উজানে অবস্থিত এই কলকাতা বন্দরটিকে  কেন্দ্র করে পূর্ব ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটে। বিগত এক শতাব্দীকাল পূর্বে এক ভূ-প্রাকৃতিক কারণে গঙ্গার মূল স্রোত পদ্মার গতিপথে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায়, ভাগীরথী নদীতে দ্রুত হারে পলি জমা শুরু হয়।  এবং একাধিক বালুচর গড়ে ওঠায় কলকাতা বন্দর আজ মুমূর্ষু প্রায়। এই সমস্যা থেকে কলকাতা বন্দরকে পলি মুক্ত করার জন্য সরকারিভাবে যে ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল -

১)  ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে সহযোগী ফিডার খালের মাধ্যমে ভাগীরথী তথা হুগলি নদীতে অতিরিক্ত জল সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ।

২)  ড্রেজার এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পলি খননের কাজ চালিয়ে যাওয়া।

৩)  পাইলট জাহাজের সাহায্যে বড় বড় জাহাজ গুলিকে পথ দেখিয়ে বন্দরে প্রবেশ করানো।

৪)  সহকারি হিসেবে হুগলি ও হলদি নদীর মোহনায় হলদিয়া বন্দর স্থাপন।

 

উক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্বেও কলকাতা বন্দরের অবনতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।  তাই এই বন্দরের সমস্যা সমাধানে আরো দুটি বিকল্প পথ অপরিহার্য।

 ১)  বদ্বীপ অঞ্চলে কোন একটি উপযুক্ত বেছে নিয়ে বন্দর গড়ে তুলে কলকাতার সাথে তার রেলপথে যোগসুত্র স্থাপন করা।

২)   সুয়েজ  বা পানামা খালের ন্যায় অনুরো খালের সাহায্যে কলকাতা বন্দরকে বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত করা।

 বিকল্প পন্থা দুটির মধ্যে দ্বিতীয়ত টি অত্যন্ত ব্যয় সাপেক্ষ তাই আমাদের মতো দরিদ্র দেশের পক্ষে ইহা সম্ভব নাও হতে পারে।  তবে সে ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ অনুসরণ করলে পূর্ব ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। 


Share:

Site ans Situation factors of Town Class 10 Geography || শহর নগর গড়ে ওঠার কারণ দশম শ্রেণী ভূগোল || WEBSE

শহর কাকে বলে শহর নগর গড়ে ওঠার কারণ গুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো ?

 যখন কোন অঞ্চলে উন্নত যোগাযোগপ্রশাসনিক সুবিধাশিল্প, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ইত্যাদির সুযোগ-সুবিধা প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং মানুষজন কৃষি  বর্জিত জীবিকায়  নিযুক্ত  থেকে নিবিড় বিন্যাস গড়ে তোলে,   তখন তাকে শহর নগর বলে। 2011 সালের পরিসংখ্যান অনুসারে ভারতের মোট শহরের সংখ্যা 7935 টি যার মধ্যে 46 টি শহরের জনসংখ্যা 10 লক্ষের বেশি।  এই 4 টি শহরকে মহানগরে চিহ্নিত করা হয়েছে।


 
শহর গড়ে ওঠার কারণ

 শহর  বা নগর গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার মানুষ থাকলে চলে না।  উপযুক্ত অবস্থান (Site)উপযুক্ত অবস্থা বা পরিপ্রেক্ষিত ( Situation)এবং উপযুক্ত কার্যাবলী (Function) প্রভৃতির প্রসার  লাভের দ্বারা  জনপদের বিকাশ ঘটিয়ে সমৃদ্ধ শহর নগর গড়ে ওঠে।  কাজেই একটি নির্দিষ্ট অবস্থানঅবস্থা  বা  পরিপ্রেক্ষিত  এবং কার্যাবলী এই তিনটি বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে শহর বা নগরের সৃষ্টি হয়।

 

 অবস্থান (Site)

 বিভিন্ন প্রকার অবস্থানে একটি শহর বা নগর গড়ে ওঠে।  এখানে অবস্থান বলতে, খনিজ সম্পদ ও শক্তি সম্পদের অবস্থানপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যকর স্থানধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পীঠস্থাননিরাপত্তার প্রয়োজনসামুদ্রিক পোতাশ্রয় প্রভৃতি সুবিধা যুক্ত অঞ্চলে ব্যবসাবাণিজ্যশিল্প, ব্যাংক ব্যবস্থা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ কাজকর্মের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে শ্রমশক্তির আগমন ঘটে।  যার ফলে উক্ত অবস্থানগুলিকে কেন্দ্র করে শহর নগর গড়ে ওঠে।

 


পরিপ্রেক্ষিত বা অবস্থা (Situation)

 অবস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন  পরিপ্রেক্ষিতে  শহর বা নগর গড়ে ওঠে।  বিভিন্ন প্রকার পরিপ্রেক্ষিতে যেমন দুটি নদীর সঙ্গমস্থলে বন্দর, অথবা জলপথ ও স্থলপথ এর মিলন স্থলে পরিবহন মাধ্যমের পরিবর্তন স্থলে, এছাড়া  বিভিন্ন প্রকার যোগাযোগের কেন্দ্রস্থলে, সুদীর্ঘ  বাণিজ্য পথের বিশ্রাম স্থলেএবং প্রাকৃতিক ও আঞ্চলিক ভিন্নতার  পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষত পর্বত ও নিম্নভূমির সংযোগস্থলেনিম্নজলাভূমি ও অপেক্ষাকৃত উচ্চভূমির সংযোগ স্থলেতৃণভূমি ও মরুভূমির পণ্য বিনিময় স্বার্থে উভয়ের সংযোগস্থলে, সমুদ্র ও স্থলভাগের সংযোগস্থলেসীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিরক্ষার প্রয়োজনে নজরদারীর সুবিধার্থে প্রভৃতির পাশাপাশি সরকারী বা বেসরকারী উদ্যোগে শিল্প গঠন ও তার উন্নতি, একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকার অর্থনৈতিক কার্যাবলীর বিকাশে অঞ্চলটি ক্রমে ক্রমে শহর বা নগরে পর্যবসিত হয়।

 


 কার্যাবলী (Function)

 অবস্থান    পরিপ্রেক্ষিতের পাশাপাশি কতগুলি বিশেষ কার্যাবলীর উপর ভিত্তি করেও  শহর নগর গঠিত হয়।  বিভিন্ন প্রকার কার্যাবলীর মধ্যে  শাসনতান্ত্রিক কাজকর্মের সুবিধাপ্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কাজকর্মের সুবিধাধর্মীয় কার্যকলাপসাংস্কৃতিক কার্যকলাপবিভিন্ন উৎপাদন ভিত্তিক কার্যাবলীইত্যাদির উপর ভিত্তি করে একটি অঞ্চল বা একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক স্থান শহর বা নগরে পর্যবসিত হয়।

 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট বোঝা যায় যেঅবস্থানপরিপ্রেক্ষিত এবং কার্যাবলী পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং এই তিনটি বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে শহর ও নগর গঠিত হয়।


Share:

Homoaphere and Heterosphere Class 10 Geography || হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার দশম শ্রেণী ভূগোল || WBBSE

 বায়ুমণ্ডল গঠনকারী উপাদান এর উপর ভিত্তি করে  বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস

 

আবহাওয়া বিজ্ঞানীগণ বায়ুমন্ডলকে প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন  । উপাদানের তারতম্যে বায়ুমণ্ডলের শ্রেণীবিভাগ  এবং উষ্ণতার ভিত্তিতে  বায়ুমণ্ডলের শ্রেণীবিভাগ। 

 

উপাদানের তারতম্যে অর্থাৎ বায়ুমণ্ডল গঠনকারী উপাদান প্রভৃতি এবং স্তর গুলির অবস্থানের উপর ভিত্তি করে আবহাওয়া বিজ্ঞানীগণ প্রধান দুটি স্তরে বিভক্ত করেন - 

 A) হোমোস্ফিয়ার বা সমমন্ডল

 B) হেটেরোস্ফিয়ারের বা  বিষম মন্ডল

 

 A) হোমোস্ফিয়ার

ভূপৃষ্ঠ থেকে ঊর্ধ্বে 90 কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের স্তরটির রাসায়নিক গঠন এবং বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত প্রায় একই রকম থাকে তাই এই স্তরটিকে হোমোস্ফিয়ার বলে

নাইট্রোজেন অক্সিজেন কার্বন ডাই অক্সাইড আর্গন নিয়ন হিলিয়াম ক্রিপটন জেনন মিথেন ওজন  প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় জলীয়বাষ্প ধূলিকণা কার্বন কণা অন্যান্য বিজাতীয় পদার্থের সমন্বয় হোমোস্ফিয়ার গঠিত

হোমোস্ফিয়ার এর অন্তর্গত ট্রপোস্ফিয়ার স্ট্রাটোস্ফিয়ার এবং মেসোস্ফিয়ার অবস্থিত। এই উপস্তর গুলির মধ্যে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়মিত পরিবর্তন ট্রপোস্ফিয়ারের সর্বাধিক দেখা যায় তাই ট্রপোস্ফিয়ার কে আবহাওয়া গঠনকারী স্তর বলা হয় যা আবহাওয়া বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

 

হোমোস্ফিয়ার ও হেটেরোস্ফিয়ার

B) হেটেরোস্ফিয়ার

 ঊর্ধ্বে 90 কিলোমিটার থেকে বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা প্রায় 10 হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত যেখানে বিভিন্ন প্রকার গ্যাসের অনুপাত এবং বায়ুমণ্ডলের স্তর গুলির বৈশিষ্ট্য একই রকম থাকে না  বিজ্ঞানীগণ  এই তর্কে  হেটেরোস্ফিয়ারের বা বিষমমন্ডল রূপে চিহ্নিত করেছেন ইহা চারটি উপস্তর সমন্বয় গঠিত

 

১) আণবিক নাইট্রোজেন স্তর

 90 থেকে 200 কিমি উচ্চতার মধ্যে আণবিক নাইট্রোজেন গ্যাসের প্রাচুর্য লক্ষ করা যায় তাই একে বলে আণবিক নাইট্রোজেন  স্তর

 

২) পারমাণবিক  অক্সিজেন স্তর

200 থেকে এগারোশো কিমি পর্যন্ত অংশে পারমাণবিক অক্সিজেন অনুর প্রাচুর্য লক্ষণীয় তাই একে পারমাণবিক অক্সিজেন স্তর বলে।

 

৩) হিলিয়াম স্তর

1100 থেকে  3500  কিমি পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের অংশটিকে হিলিয়াম স্তর বলা হয় কারণ এই স্তরে আংশিক হিলিয়াম গ্যাসের প্রাচুর্য লক্ষ করা যায়।

 

৪) পারমাণবিক হাইড্রোজেন স্তর

3500 থেকে বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা অর্থাৎ 10000 কিমি পর্যন্ত হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রাচুর্য ঘটেছে তাই একে পারমাণবিক হাইড্রোজেন স্তর বলে। 

পারমাণবিক হাইড্রোজেন  স্তরে বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমা কারণ এর পরবর্তী অংশে হাইড্রোজেন পরমাণুর ঘনত্ব মহাশূন্যের হাইড্রোজেন পরমাণুর ঘনত্বের সাথে সমান হয়ে গেছে।



Share:

Popular Posts

Recent Posts

Total Pageviews