Showing posts with label Geography Class XII. Show all posts
Showing posts with label Geography Class XII. Show all posts

Drainage Pattern Class 12 Geography || জলনির্গম প্রণালী বা নদী বিন্যাস দ্বাদশ শ্রেণী ভূগোল || WBCHSE

জলনির্গম প্রণালী  বা নদী বিন্যাস কাকে বলে ?  বিভিন্ন প্রকার জলনির্গম প্রণালী বা নদী বিন্যাসের  পরিচয় দাও ।


কোন নদী অববাহিকা  মূল নদীর সাথে তার বিভিন্ন উপনদী, শাখা নদী  প্রশাখা নদী ইত্যাদির সমন্বয়ে যে বিশেষ ধরনের নকশা বা জ্যামিতিক রুপরেখা গড়ে তোলে তাকে জলনির্গম প্রণালী বা নদী বিন্যাস বলে।  কতগুলি বিশেষ প্রাকৃতিক কারণ এর উপর ভিত্তি করে এই জলনির্গম প্রণালী গড়ে ওঠে,  যথা - 


১)  শিলাস্তরের গঠন ও প্রকৃতি

২)  শিলার কাঠিন্যের তারতম্য

৩) শিলাস্তরে ফাটল  ও  চ্যুতির  উপস্থিতি

৪)  ভূমির প্রারম্ভিক ঢাল

৫)  অববাহিকা অঞ্চলের জলবায়ু

৬) ভূগাঠনিক শক্তি

৭) অববাহিকার সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক ও ভূগাঠনিক ইতিহাস


প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকার নদী বিন্যাস বা জলনির্গম প্রণালী সৃষ্টি হয়েছে।  এই সকল প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে গড়ে ওঠা নদী বিন্যাসের মাধ্যমে ভূমিরূপ এর সাথে আভ্যন্তরীণ গঠনের সম্পর্ক এবং শিলা লক্ষণ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। 


আকৃতি ও প্রকৃতির তারতম্যে বিশেষত  প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে নদী বিন্যাস বা জল নির্গমণ প্রণালীকে প্রধান 12 টি ভাগে ভাগ করা যায়, যথা - 



1) বৃক্ষরূপী জলনির্গমন


গ্রিক শব্দ ডেনড্রন অর্থ বৃক্ষ।  যখন কোন অববাহিকার প্রধান নদী,  তার উপনদী ও শাখানদী সমন্বয় শাখা প্রশাখা যুক্ত বৃক্ষের  মতো নকশা ফুটে ওঠে, তখন তাকে বৃক্ষরূপী  নদী বিন্যাস বলে। ভূপৃষ্ঠের যেসব অঞ্চল একই ধরনের শিলায় গঠিত,  অর্থাৎ শিলার  ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতা  একই রকম,  সেই সকল অঞ্চলে বৃক্ষরূপী  জল নির্গমন গড়ে ওঠে।  দক্ষিণ ভারতের গোদাবরী ও তার উপনদী পেনগঙ্গা ও মঞ্জিরার সমন্বয়ে এইরূপ একটি নদী বিন্যাস সৃষ্টি করেছে।




2) পিনেট জল নির্গমন


বাস্তবে এটি বৃক্ষরূপী  নদী বিন্যাসের এক বিশেষ  রূপ।  এক্ষেত্রে জল নির্গমন প্রণালীর প্রধান নদীর সাথে অসংখ্য উপনদী কিছুটা সমান্তরালে প্রবাহিত হয় সূক্ষ্মকোণে  পরস্পরের সাথে মিলিত হয়।


 


3) জাফরিরূপী জল নির্গমন


এই  রূপ জল নির্গমন প্রণালীতে উপনদী গুলি সমান্তরালভাবে শিলাস্তরের  আয়াম () বরাবর প্রবাহিত হয়ে  প্রধান নদীর সাথে প্রায় সমকোণে মিলিত হয়।  ভূপৃষ্ঠের যেসব অঞ্চলে  পর্যায়ক্রমে কঠিন ও কোমল শিলা অবস্থান করছে,  সেখানে পরবর্তী নদী গুলি কঠিন শিলা এড়িয়ে দুর্বল শিলার আয়াম বরাবর প্রবাহিত হয় পরিশেষে অনুগামী নদী গুলির সাথে সমকোণে মিলিত হয় এবং এর ফলে পরবর্তী নদী গুলির  দুই  তীর বরাবর কঠিন শিলা স্তর শৈলশিরা রূপে অবস্থান করে। এর ফলে সামগ্রিক যে রূপ বা নকশা গঠিত হয় তা দেখতে হয় অনেকটা জাফরিন মত। বাঘেলখন্ড মালভূমিতে এই প্রকার জাফরি রূপী  জল নির্গমন প্রণালী দেখা যায়।


4) আয়তক্ষেত্ররূপী জল নির্গমন


যখন প্রধান নদী ও তার উপনদী এবং শাখা নদী পরস্পর সমকোণে মিলিত হয় তখন একটি আয়তাকার নকশা ফুটে ওঠে।  তাই একে আয়তক্ষেত্র রূপী জল নির্গমন বলে । মাঝারি ও অল্প বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে  অধিক চ্যুতি  ও ফাটল থাকলে,  চুতি  ও ফাটল বরাবর প্রধান নদী,  উপনদী গুলি পরস্পরের সাথে সমকোণে মিলিত হয়ে  এই রূপ নদী বিন্যাস গঠন করে। মধ্য ভারতের বেতোয়া ও শোন নদী অববাহিকায় এইরূপ নদী বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়।



5) সমান্তরাল নদী বিন্যাস


সাধারণভাবে অধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে  ভূভাগের ঢাল যদি তীব্র হয় অথবা ভূ গাঠনিক শক্তির প্রভাবে সৃষ্ট নদী গুলি একে অপরের সাথে সমান্তরালে বা প্রায় সমান্তরালে নির্দিষ্ট ব্যবধান বরাবর প্রবাহিত হয়,  তাকে সমান্তরাল নদী বিন্যাস বলে।  শিবালিক পর্বতের ঢাল বরাবর এই প্রকার নদী বিন্যাস গড়ে উঠেছে।



 6) কেন্দ্রমুখী নদী বিন্যাস


সাধারণভাবে কোন পর্বত বেষ্টিত অববাহিকা,  কোন নিম্ন অববাহিকা অঞ্চল অথবা আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ প্রান্তবর্তী উচ্চভূমি থেকে সৃষ্ট নদীগুলি পরস্পর মাঝের  অবনমিত অঞ্চলটিতে মিলিত হয়।  অর্থাৎ বিভিন্ন দিক থেকে আগত নদীগুলি পরস্পর মিলিত হয় বলে একে কেন্দ্রমুখী নদী বিন্যাস বলে।  আফ্রিকার চাঁদ,  নেপালের কাঠমান্ডু উপত্যকায় এইরূপ নদী বিন্যাস দেখা যায়।


 

7) কেন্দ্রবিমুখ নদী বিন্যাস


কোন গম্বুজ পাহাড় আগ্নেয়গিরির শঙ্কু কিংবা বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের শীর্ষ দেশ থেকে নেমে আসা নদীগুলি চক্রের দন্ডের ন্যয় কেন্দ্র বা শীর্ষ থেকে  বহির্মুখে প্রবাহিত হয়। একে কেন্দ্রবিমুখ নদী বিন্যাস বলে।   ঝাড়খণ্ডের ছোটনাগপুর অঞ্চলে গ্রানাইট গঠিত পাহাড়ে এই প্রকার কেন্দ্রবিমুখ নদী বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। 



8) পাঁজর আকৃতির নদী বিন্যাস



পাহাড়ি অঞ্চলে মূল নদীটি গভীর উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং দুই দিকের খাড়া ঢাল বেয়ে বয়ে আসা  পরবর্তী নদী গুলি  সমকোণে মিলিত হওয়ায় পাঁজরের ন্যয় জ্যামিতিক রূপরেখার সৃষ্টি হয়।  একে বলে পাঁজর আকৃতির নদী বিন্যাস। এইরূপ নদী বিন্যাস দেখতে অনেকটা হেরিং মাছের কাঁটার মতো বলে একে হেরিংবোন নদী বিন্যাসও  বলা হয়।



9) অঙ্গুরীয় জলনির্গমন



কোন গম্বুজাকৃতির পাহাড়ে কঠিন ও কোমল শিলা পরপর অবস্থান করলে বৈষম্যমূলক ক্ষয় কার্যের ফলে কোমল শিলা অধিক ক্ষয় পায় ফলে পর্বত কে বেষ্টন করে কতগুলি ধাপের সৃষ্টি হয়।  কোন শিলায় গঠিত এই ধাপ এর উপর বা ধাপ বরাবর পর্বত কে বেষ্টন করে চক্রাকারে আংটির ন্যয়  প্রবাহ পথে নদী নিচে নেমে আসে, তাই একে অঙ্গুরীয় জলনির্গমন প্রণালি বলে।  রাচি মালভূমিতে নদী বিন্যাস লক্ষ্য করা যায় ।



10) অসংগত নদী বিন্যাস


নদীর উৎস অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে এই রূপ নদী বিন্যাস গঠিত হয়।  যখন উপনদী গুলি প্রধান নদীর বিপরীতে  প্রবাহিত হয়ে  নৌকা  ঠেলার  আকশি বা  বর্শির মতো  সূক্ষ্মকোণী মিলিত হয়,  তখন  এই রূপ নদী বিন্যাস এর সাথে আভ্যন্তরীণ গঠনের কোন  সংগতি থাকেনা ।  তাই একে অসংগত নদী বিন্যাস বলে। সাধারণভাবে নদী গ্রাসের  ফলে অসঙ্গত জলনির্গমন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।  ওড়িশা রাজ্যের গর্জন হাট পাহাড়ের খান্ডিবাহালে  এই রূপ নদী বিন্যাস দেখা যায়।  



11) অনিয়মিত নদী বিন্যাস


প্লাবনভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলে কোন কোন ক্ষেত্রে এই রূপ নদী বিন্যাস দেখা যায়।  মূলত এক্ষেত্রে প্রবাহিত নদীগুলি কিছুদূর প্রবাহিত হয়ে  প্লাবনভূমিতে হারিয়ে যায় এবং এদের শাখা নদী প্রায় থাকে না বললেই চলে।  পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে  এই প্রকার নদী বিন্যাস লক্ষ্য করা যায় । 



12) বিনুনিরূপী  নদী বিন্যাস


নদীর মোহনা অঞ্চলে বা কোন নদী পার্বত্য ভূমি ত্যাগ করে হঠাৎ সমভূমিতে নেমে  এলে ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় নদীটি বহু শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট হয়ে পড়ে।  এই শাখা নদী গুলি কখনো বিচ্ছিন্নভাবে আবার কখনো একত্রিত হয়ে এগিয়ে চলে। এর ফলে  চুলের বিনুনির ন্যয়  নকশা ফুটে ওঠে।  তাই একে বিনুনি আকৃতির নদী বিন্যাস বলে।  গঙ্গা নদীর মোহনা বিশেষত সুন্দরবন অঞ্চলে এই রূপ নদী বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। 



Share:

Fluvial landforms in Arid region Class 12 || মরু অঞ্চলে জলধারার ক্রিয়ায় গঠিত বিশেষ ভূমিরূপ দশম শ্রেণী || WBCHSE

মরু অঞ্চলে জলধারার ক্রিয়ায় গঠিত বিশেষ ভূমিরূপ গুলির পরিচয় দাও?

সাধারণভাবে মরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অতিসামান্য ঘটে এবং কোন কোন মরু প্রান্তরে দীর্ঘ পাঁচ থেকে সাত বছরেও একফোঁটা বৃষ্টিপাত হয় না।  কিন্তু কখনো কখনো ক্ষণস্থায়ী যে প্রবল বর্ষণ ঘটে,  তার প্রভাবে মরু প্রান্তরে অবস্থিত পর্বত গুলি থেকে অসংখ্য  বেগবতী  জলধারা সৃষ্টি হয়।  এদের স্থানীয় ভাষায় ওয়াদি  বলে। এই জলধারা গুলির ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজে শুষ্ক অঞ্চলে বেশকিছু প্রকারের ভূমিরূপের  আবির্ভাব ঘটে। 


১) পেডিমেন্ট


পেডি শব্দের অর্থ  পাদদেশ এবং মেন্ট  শব্দের অর্থ  পাহাড়।  অর্থাৎ মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশে বগবতী জলধারা বা ওয়াদির হয় কাজে মৃদু  ঢালু  শিলায় গঠিত  যে ভূমি ভাগের সৃষ্টি হয়,  ভূবিজ্ঞানী গিলবার্ট ()  একেই পেডিমেন্ট নামে চিহ্নিত করেছেন।  পেডিমেন্ট এর প্রকৃতি অনেকটা অবতল প্রকৃতির।  এর ওপর দিকের  ভূমিভাগ  প্রায় 7 ডিগ্রি কোণে  হেলে থাকে তবে এর পাদদেশের ঢাল খুবই সামান্য হয় মাত্র 1.5 ডিগ্রি । পেডিমেন্ট এর উৎপত্তি ও আকৃতি গত  পার্থক্য সুস্পষ্ট এবং এর উপর ভিত্তি করে ভূবিজ্ঞানীগণ  পেডিমেন্ট কে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন।  যথা -



a) আবৃত পেডিমেন্ট


কখনো কখনো মরু অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা পেডিমেন্ট,  নুড়ি পাথরে  আবৃত হয়ে পড়ে,  অর্থাৎ প্রকৃত পেডিমেন্ট টি ঢাকা পড়ে যায়,  তাই একে আবৃত পেডিমেন্ট বলে।


b) একাঙ্কিভূত পেডিমেন্ট


কখনো কখনো পাদদেশে গড়ে ওঠা একাধিক পেডিমেন্ট পরস্পর যুক্ত হয়ে সুবিস্তৃত পাদদেশীয় ভূমি গড়ে তোলে,  তাই একে বলে  পাদদেশীয়  একাঙ্কিভূত পেডিমেন্ট। 



c) ব্যবচ্ছিন্ন পেডিমেন্ট


পাদদেশীয় অঞ্চলে গড়ে ওঠা  পেডিমেন্ট বেগবতী জলধারা বা ওয়াদি দ্বারা  খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়লে তাকেই ব্যবচ্ছিন্ন পেডিমেন্ট বলে।


২)  বাজাদা


পেডিমেন্ট ছাড়িয়ে ওয়াদি বাহিত নুড়ি প্রস্তরখণ্ড  পলি বালি  কাদা  প্রভৃতির সঞ্চয়ে গড়ে ওঠা একাধিক পলল ব্যজনী পরস্পর যুক্ত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকেই বাজাদা বলে।


৩) ইনসেলবার্জ


ইনসেলবার্জ একটি জার্মান শব্দ যার অর্থ হল  দ্বীপ শৈল বা দ্বীপের মতো পাহাড় ()।  ভূবিজ্ঞানী প্যাসেজ () মরু অঞ্চলে কঠিন শিলায় গঠিত অবশিষ্ট পাহাড় গুলোকে ইনসেলবার্জ বা ইনসেলবার্গ  নামে চিহ্নিত করেন।  তবে ভূবিজ্ঞানী বনহার্ড ()  পূর্ব আফ্রিকায় এই জাতীয় অবশিষ্ট পাহাড় গুলোকে বর্নহার্ড  পাহাড় নামে  চিহ্নিত করেন। 


মরু অঞ্চলে জলধারার ক্রিয়ায় গঠিত বিশেষ ভূমিরূপ


প্রসঙ্গত ইনসেলবার্জ এর আকৃতি বিশিষ্ট আরো কয়েক প্রকার ভূমিরূপ মরু অঞ্চলে জলধারার কাজে গড়ে ওঠে।  যথা -

৪) টরস


মরু অঞ্চলে কঠিন শিলায় গঠিত প্রতিরোধ করে বামন আকৃতির বা অতি ক্ষুদ্রাকৃতির  যে ঢিবি গড়ে ওঠে তাদের বলে টরস ।



৫) কোপিস বা কোপজেস বা ক্যাসেল  কোপজেস


ভূবিজ্ঞানী গণের মতে ওয়াদি  বাহিত নুড়ি, প্রস্তর খন্ড,  বিপুল পরিমাণে সঞ্চিত হয়ে পাহাড়ের আকার ধারণ করলে, তাদের কোপিস বা কোপজেস বা ক্যাসেল  কোপজেস বলে। 


৬) প্লায়া


মরু অঞ্চলে ক্ষণস্থায়ী  প্রবল বর্ষণে  সৃষ্ট বেগবতী জলধারা বা ওয়াদি  অচিরেই  কর্দম প্রবাহে পর্যবসিত হয়  এবং পেডিমেন্ট ও বাজাদা ছাড়িয়ে নিম্নভূমিতে সঞ্চিত হয়ে যে লবণাক্ত  হ্রদ গড়ে তোলে, তাদের বলে প্লায়া বা সেলিনা।  আফ্রিকা মহাদেশ এই প্রকার লবণাক্ত জলের হ্রদ শর্ট,  মেক্সিকোতে বুলসন, আরব মরুভূমিতে খাবারি ও মামলাহা এবং ভারতবর্ষে রাজস্থানে ধান্দ নামে পরিচিত।


৭) মেসা  ও বিউট


মরু অঞ্চলে সমান্তরাল ভাবে বিন্যস্ত কোমল শিলায় গঠিত খাড়া ঢাল যুক্ত মালভূমি, সমভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়লে তাদের বলে মেসা।  তুলনামূলক ভাবে ক্ষুদ্রায়তন বৈশিষ্ট্যযুক্ত  বা অপেক্ষাকৃত  ছোট সমতল পৃষ্ঠ যুক্ত পাহাড় কে বলে বিউট।  দক্ষিণ আমেরিকার অ্যারিজোনায় এই জাতীয় ভূমিরূপ লক্ষ করা যায়।  



প্রসঙ্গত মরু অঞ্চলে ক্ষণস্থায়ী প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট ওয়াদি অচিরেই বন্ধ হয়ে যায়।  অসংখ্য নদী খাতের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।  যদিও জল্ধারার কাজে মরু অঞ্চলে উপরিউক্ত ভূমিরূপ গুলির আবির্ভাব ঘটে তথাপি স্মরণ রাখা দরকার জলধারার কাজে গঠিত ভূমিরূপ গুলি পরবর্তীকালে বায়ুর কাজে  আংশিকভাবে পরিবর্তিত হয়।




Share:

Arid cycle of erosion Class 12 Geography || শুষ্কতার ক্ষয়চক্র দ্বাদশ শ্রেণী ভূগোল || WBCHSE

মরু অঞ্চলে শুষ্কতার ক্ষয়চক্রের বিষয়টির প্রথম প্রবক্তা হলেন উইলিয়াম মরিস  ডেভিস।  ডেভিস এর মতে ভূ আলোড়নে  সর্বপ্রথম কতগুলি পর্বত বেষ্টিত অববাহিকার সৃষ্টি হয় যাতে কেন্দ্রমুখী জলনির্গম প্রণালী গড়ে ওঠে।  ক্রমে ক্রমে অববাহিকার পার্শ্ববর্তী  পর্বত গুলি ধীরে ধীরে অববাহিকার  ও জলের কাজে ভয় পেয়ে পশ্চাৎ অপসারণ করে।  এবং অববাহিকার মধ্যে স্থানীয় কতগুলি পৃথক পৃথক নিম্ন দিকে ক্ষয় করার  শেষ সীমা  গড়ে ওঠে।  যৌবন অবস্থায় বিভিন্ন প্রাপ্ত পদার্থ অববাহিকায় সঞ্চিত হতে থাকায়,  অববাহিকা ক্রমশ  উঁচু  হয়ে পরে এবং পার্শ্ববর্তী  পর্বত গুলি ক্রমশ নিচু হতে থাকে।  পরবর্তীকালে নদীগুলির মস্তকের দিকে  ক্ষয়ের ফলে  পর্বত গুলি পরস্পর থেকে ব্যবচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী অববাহিকা কে অববাহিকাকে  গ্রাস করে।  এইভাবে বিভিন্ন অববাহিকার মধ্যে নদীগুলি পরস্পরকে গ্রাস করে কিছুটা একত্রিত হয়।  এখান থেকেই ভূমিরূপের পৌঢ়  অবস্থা প্রাপ্ত হয়।  পরবর্তীকালে নদীগুলি একত্রিত হওয়ার ফলে অববাহিকার মধ্যে পৃথক পৃথক নিম্ন দিকে ক্ষয় করার  পরিবর্তে একটি মাত্র স্থানীয় ক্ষয় করার সীমা  দ্বারা  অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রিত হয়।  এর পরবর্তীকালে পর্বত গুলি ক্ষয় পেয়ে  অবশিষ্ট পাহাড় রূপে দাঁড়িয়ে থাকে।  বার্ধক্য অবস্থায় অঞ্চলটিতে  বায়ুর কাজ প্রাধান্য পায়।  ফলে বায়ু দ্বারা অপসৃত পদার্থ সমূহ বিস্তৃততম অঞ্চল জুড়ে প্রসারিত হয়ে পড়ে। 

ডেভিসের এই ক্ষয়চক্রের ধারণা


ডেভিস তার শুষ্কতার ক্ষয়চক্রের  যে বর্ণনা দিয়েছেন তা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমের মরু অঞ্চলের   ন্যয় পর্বত বেষ্টিত অববাহিকায় প্রযোজ্য হলেও পৃথিবীর যাবতীয় মরু অঞ্চলে পর্বত বেষ্টিত অববাহিকায় প্রযোজ্য নয়। তাই ডেভিসের এই ক্ষয়চক্রের ধারণা সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। 


পরবর্তীকালে ডেভিসের অন্যতম ছাত্র এল সি কিং পেডিমেন্ট এর ক্ষয়চক্র নামে অপর একটি স্বতন্ত্র মতবাদ প্রকাশ করেন এবং এটি ডেভিস প্রবর্তিত অপেক্ষা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।  পরবর্তীকালে ডেভিস নিজেও এল সি কিং এর মতবাদ সমর্থন করেছেন।


এল সি কিং এর মতবাদে

এল সি কিং এর মতবাদে  পর্বত গুলির পশ্চাৎ অপসারণ এর তুলনায় পেডিমেন্ট এর বিস্তার এর উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।  তাঁর মতে পেডিমেন্ট যত বিস্তৃত হবে,  উচ্চভূমির ততই পশ্চাৎ অপসারণ করবে। এইভাবে, পর্বতের  এক পার্শ্বস্থ পেডিমেন্ট পর্বত ভেদ করে অপর পার্শ্বের পেডিমেন্টের সাথে পরস্পর মিলিত হবে। এর ফলে অবশিষ্ট পাহাড় বা ইনসেলবার্জ গড়ে উঠবে।  পৌঢ়  অবস্থায় ভূমিরূপে  পেডিমেন্ট এর প্রাধান্য ঘটবে এবং  ভূমিরূপের বার্ধক্য অবস্থায় পেডিমেন্ট গুলি পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে  বিস্তৃত তম  পেডিপ্লেন  গড়ে তুলবে। এই  পেডিপ্লেন এর  মাঝে ইনসেলবার্জ গুলি বিচ্ছিন্নভাবে দূরে দূরে অবস্থান করবে। 






Share:

Popular Posts

Recent Posts

Total Pageviews